এসইও কি? এসইও কিভাবে করবো সহজ সমাধান ।

এসইও কি? এসইও কিভাবে করবো। ডিজাইন: Mobile Tutor


এসইও কি বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটির মাধ্যমে যেকোন ওয়েব পেজ হাজার হাজার কিওয়ার্ডের জন্যে সার্চ ইঞ্জিনে টপ লেভেল এ থাকে।
আজকে SEO কি এবং কেন SEO করা হয়, সেই সাথে এসইও কিভাবে করা হয় আর কেনই বা এসইও শিখবো, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করি।

এসইও কি? What is SEO?

এসইও এর পূর্ণরূপ হচ্ছে - সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। আমরা যখন গুগল কিংবা অন্য যেকোন সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু লিখে সার্চ করি, তখন গুগল কিংবা ঐ সার্চ ইঞ্জিন কতগুলো পেজ দেখায় ।
সেখান থেকে আমরা আমাদের কাঙ্খিত লিংকে ক্লিক করি এবং কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে ভিজিট করে আমাদের দরকারি তথ্য খুঁজে পাই। যেই কারণে গুগল কিংবা সার্চ ইঞ্জিন ওই পেজগুলো দেখায়, আর এই পদ্ধতিকে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।
 

কেন এসইও করবেন? Why do SEO?

আমরা স্বাভাবিকভাবে আমাদের ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে টপ রাঙ্ক করানোর জন্যে এসইও করি থাকি । এসইও করার মাধ্যমে আমরা সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের(SERP) প্রথমে থাকার চেষ্টা করি। কারণ মানুষ যখন কোনকিছু নিয়ে সার্চ করে তখন রেজাল্ট পেজের প্রথমে যাদের website থাকে তাদের linkএ ক্লিক করে।

ধরুন, আপনার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে যেখানে আপনি উন্নত মানের সার্ভিস প্রদান করে থাকেন। আপনার অনেক ভাল ভাল শিক্ষক আছে। আপনার স্কুলের পরিবেশ অনেক সুন্দর। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নানা রকম সুযোগ-সুবিধা আছে।

এজন্য আপনি সবসময়ই চাইবেন যাতে আপনার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী বেশি থাকে। আপনি জানেন আপনার স্কুল ভালো কিন্তু আপনার এই সকল তথ্য অন্যদের কাছে পৌঁছাতে অবশ্যই আপনাকে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। এর জন্য হয়তোবা আপনি পোস্টার ব্যবহার করবেন নয়তোবা ব্যানার ব্যবহার করবেন। অথবা মাইক এর সাহায্যে প্রচার করবেন।


অর্থাৎ আপনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সব কিছুর বিনিময়ে ভোক্তার নিকট আপনার তথ্য পৌঁছে দেয়া। যখন এটি সঠিকভাবে করতে পারবেন ঠিক তখনই আপনার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বেড়ে যাবে।

এখন এই পুরো প্রক্রিয়া যেটার মাধ্যমে আপনার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যায় সেটাই আমরা এসইও বলে থাকি। একইভাবে আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজ এর প্রথমে রাখতে যে সকল কাজ করবেন তাই এসইও।

জানুন এসইও কত প্রকার ও কি কি? Type of SEO.

এসইও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রকারগুলো আমরা আজকে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

  • টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO)
  • অন-পেজ এসইও (On - Page SEO)
  • অফ-পেজ এসইও (Off - Page SEO)
  • কন্টেন্ট এসইও (Content SEO)
  • লোকাল এসইও (Local SEO)
  • হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)
  • ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO)

কিভাবে এসইও (seo) করবেন?

কিভাবে এসইও করতে হয় বা কিভাবে এসইও করা যায় এবং তা কিভাবে করবেন? পুরো বিষয়টি সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করতেছি ।

টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO)

টেকনিক্যাল এসইও কি? টেকনিক্যাল এসইও কেন করা হয়? টেকনিক্যাল এসইও গুরুত্ব কতটুকু? এই প্রশ্নগুলো হয়তোবা আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। ওয়েবসাইটে টেকনিক্যাল বিষয়ক যে কাজগুলো করা হয় তাই টেকনিক্যাল এসইও। যেমন,
  • ওয়েবসাইট স্ট্রাকচার ও ডিজাইন
  • পেজ স্পিড মেইনটেইন করা
  • সাইট ম্যাপ
  • Robots.txt ফাইল আপলোড
  • থিন  কনটেন্ট
  • মোবাইল ইউজ আবিলিটি
  • এসএসএল সার্টিফিকেট
  • ইউআরএল স্ট্রাকচার ঠিক রাখা ইত্যাদি বিষয়গুলো টেকনিক্যাল এসইও এর মধ্যে পড়ে থাকে।

অনপেজ এসইও (On - page SEO)

অন-পেজ এসইও মূলত সাইটের ভিতরে করা হয়। চলুন একটি উদাহরণ এর মাধ্যমে বিষয়টিকে পুরোপুরি ক্লিয়ার করার চেষ্টা করি।

ধরুন আপনি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল তৈরি করেছেন। এখন আপনার এই স্কুলটিকে ডেকোরেট করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন আসবাবপত্রের প্রয়োজন হবে। ছাত্র-ছাত্রী পাওয়ার জন্য প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। এজন্য হয়তোবা অ্যাডভার্টাইজ করবেন। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার কিংবা মাইকিং এর সাহায্যে প্রচার প্রচারণার কাজ করবেন।

আপনি যদি এই স্কুলের সাথে এসইও তুলনা করেন তাহলে স্কুলের আসবাবপত্র বা ডেকোরেট এর জন্য যা করা হয়েছে তাই অনপেজ এসইও। সুতরাং বলতে পারি একটি ওয়েবসাইট এর ভিতরে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য যে কাজ করা হয় তাই অন-পেজ এসইও।

যেমন, ইউআরএল, টাইটেল, সাব হেডিং, বডি কন্টেন্ট, ইন্টারনাল লিংকিং, মেটা টাইটেল, মেটা ডেস্ক্রিপশন ইত্যাদি এই অপটিমাইজেশনগুলো আপনি যত দক্ষতার সাথে অপটিমাইজ করতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইট ততো ভালো রাঙ্ক পাবে।

অফ-পেজ এসইও (Off - page SEO)

অফ-পেজ এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে সাইটের বাইরে করা হয় এমন কাজ। যেমন, সোশ্যাল নেটওয়াক শেয়ার , লিংক বিল্ডিং, সাইটেশন বিল্ডিং ইত্যাদি। আপনি যদি উপরের উদাহরণটি দেখেন, তাহলে দেখবেন ওখানে আমি স্কুলে ছাত্র ছাত্রী পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার কথা উল্লেখ করেছি । সুতরাং আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর পাওয়ার জন্য যেভাবে প্রচার-প্রচারণার করবেন তাই হচ্ছে অফ-পেজ এসইও।

চলুন একটি উদাহরণ দেখব, আপনি নিশ্চয়ই Quora.com চিনেন। এখানে দেখবেন অনেকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে আবার অনেকে তার উত্তর দিয়ে থাকে। কেউ কেউ দেখবেন উত্তর দেয়া শেষে নিচে ছোট্ট করে একটি কথা লিখে রাখে । যেমন, আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন বা সম্পূর্ণ পড়া চালিয়ে যেতে এখানে ক্লিক করুন বা আরও জানুন। এরকম লিখে তাতে একটি লিঙ্ক দিয়ে থাকেন। এটি হচ্ছে লিংক বিল্ডিং। আর এভাবে অফ-পেজ এসইও করা হয়ে থাকে।

লোকাল এসইও কি? What is local SEO?

লোকাল এসইও কি? এখানে চিন্তার বিষয় হলো লোকাল বলতে আমরা কি বুঝি। নিশ্চয়ই আপনি চিন্তা করতেছেন এটি স্থানীয় বিষয়ক কিছু হবে। হ্যাঁ আপনি সঠিক ধারণা করেছেন। কোন নির্দিষ্ট স্থানকে কেন্দ্র করে যে এসইও করা হয় তাই লোকাল এসইও।

ধরুন আপনি রংপুরে বসবাস করেন। এখানে আপনার একটি হার্ডওয়ারের দোকান আছে। আপনি অনলাইনে এবং অফলাইনে সেবা প্রদান করে থাকেন। রংপুরে যারা থাকে তাদের কোন হার্ডওয়ারের প্রয়োজন হলে আপনার দোকান থেকে নিতে পারবে। কিন্তু ভারতের একজন লোকের এমন একটি হার্ডওয়ারের দরকার যা আপনার দোকানে আছে।

হয়তোবা অনলাইনে তিনি অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন কিন্তু অফলাইনে সেবা পাওয়াটা সেই নাগরিকের জন্য অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়ক হয়ে যাবে। ঠিক এমনটায় হচ্ছে লোকাল এসইও যা কোন নির্দিষ্ট স্থানের জন্য করা হয়ে থাকে ।

কনটেন্ট এসইও (Content SEO) 

ওয়েবসাইটকে রাঙ্ক করার ক্ষেত্রে কনটেন্ট এসইও এর গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিকভাবে কনটেন্ট এসইও করতে না পারলে তা কোনোভাবেই গুগলে ইনডেক্সসহ রাঙ্ক করা সম্ভব না। তাই ওয়েবসাইটকে রাঙ্ক করানোর জন্য কনটেন্ট এসইও করার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। কিভাবে কনটেন্ট এসইও করবেন? চলুন জেনে নেয়া যাক।

  • টাইটেল: কনটেন্ট এসইও করার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে কনটেন্ট এর টাইটেল। কনটেন্ট এর জন্য সঠিক টাইটেল।নির্বাচন করতে না পারলে আপনি কোনোভাবেই কনটেন্টকে রাঙ্ক করাতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে একটি মার্জিত টাইটেল নির্বাচন করতে হবে। টাইটেলের length অবশ্যই ৭০ ক্যারেকটারের মধ্যে থাকতে হবে। এছাড়াও সাবটাইটেল, মেটা টাইটেল বা মেটা ডেস্ক্রিপশন সঠিকভাবে দিতে হবে।

  • ইউআরএল: কনটেন্ট ইউআরএল যদি ঠিক না হয় তাহলে আপনাকে সমস্যা ফেস করতে হবে। কনটেন্ট এর ইউআরএল ছোট হতে হবে এবং কনটেন্ট এর টাইটেল-এ যে কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন সেটি অবশ্যই ইউআরএল-এ থাকতে হবে।

  • কিওয়ার্ড এর ব্যবহার: কনটেন্টের মধ্যে কিওয়ার্ড এর ব্যবহার সঠিকভাবে করতে হবে। কনটেন্টের প্রথমে যে প্যারা লিখবেন অবশ্যই সেখানে আপনার মূল কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। কিওয়ার্ড ডেনসিটির প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

  • ইউনিক কন্টেন্ট: আপনার কনটেন্ট অবশ্যই ইউনিক হতে হবে। ইউনিক বিষয়টি আমাদের সকলের কাছে পরিষ্কার না। ইউনিক বলতে আমরা বুঝি একদম নতুন অন্য কোথাও নাই। যার কোন অস্তিত্ব নাই। বিষয়টি আসলে তেমন না। গুগোল এ এমন কিছু নাই যা আপনি পাবেন না। তাহলে চিন্তা করুন আপনি যা লিখবেন তাই ইউনিক কিভাবে হয়?

আসলে ইউনিক হচ্ছে তাই যা আপনি আপনার মত করে দিবেন। তা অবশ্যই অন্য কারো কনটেন্ট এর সাথে মিল থাকবে না। চলুন ছোট্ট একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি ক্লিয়ার করা যাক।
ধরুন কেউ একজন তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন"মুঘল সম্রাট শাহজাহান আগ্রার তাজমহল নির্মাণ করেছেন"।

এখন আপনি এটিকে কিভাবে ইউনিক করে লিখবেন? আপনি যদি ওই ওয়েবসাইটের মতই লিখে দেন যে, মুঘল সম্রাট শাহজাহান আগ্রার তাজমহল নির্মাণ করেছেন। তাহলে গুগোল এটিকে কপি-পেস্ট ধরে নিবে। কিন্তু আপনি যদি এভাবে লিখেন "মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার সহধর্মিণী মমতাজের জন্য আগ্রার তাজমহল নির্মাণ করেছেন"। দুটি উত্তর দুই রকম আর এটি হচ্ছে ইউনিক কন্টেন্ট। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

হোয়াইট  হ্যাট এসইও (White Hat SEO)

হোয়াইট  হ্যাট এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সেই সকল পদ্ধতি যেগুলো সার্চ ইঞ্জিনের যাবতীয় নির্দেশনা এবং নিয়মকানুন অনুসরণ করে করা হয়। এই পদ্ধতিতে কাজ করলে স্বাভাবিকভাবে Better Rank পাওয়া যায়। গুগলের কাছে সবথেকে পছন্দের পদ্ধতি হোয়াইট হ্যাট এসইও। যদি আপনি সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মনীতি মেনে আপনার ওয়েবসাইটটিকে অপটিমাইজ করেন, তাহলে আপনি সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভালো ট্রাফিক পাবেন।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO)

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও মূলত সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মনীতি ভঙ্গ করে করা হয় অর্থাৎ এটি সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মবহির্ভূত একটি এসইও পদ্ধতি। সার্চ ইঞ্জিনে তাড়াতাড়ি Rank বাড়ানোর জন্য অনেকেই কৃত্রিম ভাবে লিংক বিল্ডিং করে। অর্থাৎ বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যাকলিংক তৈরি করে। মানুষ এটার প্রতি আগ্রহী হয়ে থাকে কারণ এই ধরনের সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে হাজার হাজার লিংক তৈরি করা যায় খুব অল্প সময় ব্যয় করে ও কম পরিশ্রম করে। তাই বেশি লিংক ক্রিয়েট করে রাঙ্ক করার জন্যেই মানুষ ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে।

 যদি সার্চ ইঞ্জিন কোনভাবে এইসব লিংকগুলো ধরে ফেলে তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিন বাতিল করে দিবে কারণ সার্চ ইঞ্জিনের প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত, যা খুব সহজেই এই ধরনের ওয়েবসাইটগুলোকে সহজেই বাতিল করে দেয় । আর একবার এমন হলে ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিনে পুনরায় রাঙ্ক করানো খুবই কঠিন হয়ে যায়, অনেকক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না।

কেন এসইও শিখবেন? Why learn SEO?

এসইও শেখা জরুরী কেন? এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপনি কেন এসইও শিখবেন সেটা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হন তাহলে আপনার ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসা আপনার এসইও শেখার কারণ হতে পারে । 

আবার আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং-এ ডিজিটাল একজন মার্কেটার হিসাবে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলেও আপনার জন্যে এসইও শেখাটা অতীব জরুরী। কারণ এসইও শেখা ব্যতীত আপনি কোনভাবেই আপনার ক্লায়েন্টদেরকে ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা সঠিকভাবে দিতে পারবেন না। আসুন আমরা বিষয়টি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি।

একজন ব্যবসায়ী কেন এসইও শিখবেন?

ধরে নেয়া যাক, আপনার একটি সুপার শপ আছে। যেখানে আপনি অনেক ভাল মানে পণ্য কিংবা সেবা প্রদান করেন। বর্তমান সময় অনুযায়ী যদি আপনি আপনার শপ কে অনলাইনে সুন্দরভাবে পরিবেশন করতে না পারেন, তাহলে আপনার ক্রেতাগণ কোনভাবেই আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে না।

আর এই এসইও শিখে আপনি যদি আপনার সুপার সপ কে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ভালভাবে সার্চ ইঞ্জিনে রাঙ্কিং এর জন্যে অপটিমাইজ করতে পারেন তাহলে আপনার পণ্য বা সেবার বিক্রি বেড়ে যাবে। 

 মার্কেটার হিসেবে কেন এসইও শিখবেন?

 যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটার হতে চান কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা প্রদান করতে চান তাহলে আপনাকে এসইও অবশ্যই শিখতে হবে।
এটি আসলে খুবই সহজ , আপনি যদি আপনার এসইও দক্ষতা দিয়ে অন্য কোন ব্যক্তির ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে রাঙ্ক করাতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই এসইও শিখতে হবে এবং তা খুবই ভাল করেই শিখতে হবে। তা না হলে আপনি কোনভাবেই আপনার কাস্টমারকে ভালো সেবা প্রদান করতে পারবেন না।

আপনার ক্লায়েন্ট এর বা কাস্টমার এর উদ্দেশ্য একটাই থাকবে আপনার কাছ থেকে বেটার কিছু পাওয়া । আপনার মাধ্যমে তার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজ এর প্রথম স্থানে রাখা। আর আপনি যদি তা করতে না পারেন তাহলে আপনি কোনোভাবেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর সফলতার সাথে কাজ করতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে খুব ভালোভাবে এসইও শিখতে হবে।

কিভাবে এসইও শিখে আয় করবেন।

সকলের মনেই একটি প্রশ্ন থাকে কিভাবে এসইও শিখে আয় করা যায়?
বর্তমানে ফ্রীলাঞ্চিংকে জনপ্রিয় পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছে হাজারো পেশাজীবী লোকজন। আর এই ফ্রীলাঞ্চিং করে দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন ফ্রিল্যান্সারগণ। এই কাজের সফলতা আসার পিছনে একমাত্র অবদান যেটির সেটি হচ্ছে এসইও।

ক্লায়েন্ট এর ওয়েবসাইট কে বা ক্লায়েন্টের প্রডাক্ট কে ভোক্তার নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সারগণ এসইও ব্যবহার করে থাকেন। আর যখন তারা এই কাজে সফলতা অর্জন করে তখন ক্লায়েন্ট তাদের প্রতি খুশি হয়ে তাদের পারিশ্রমিক বুঝায় দেন।

 আমি আশাবাদী যে, এসইও সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা হলেও আমি আপনাকে দিতে পেরেছি। আপনার বিজনেস কিংবা ওয়েবসাইটকে বেটার পজিশনে রাখতে হলে অবশ্যই আপনাকে ভালোভাবে এসইও করতে হবে। অন্যথায় আপনি কোনোভাবেই ভালো ফলাফল পেতে পারবেন না।

আপনি যদি সঠিকভাবে আপনার ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে অপটিমাইজ করতে পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট গুগলের ফাস্ট পেজে থাকবে। আর ফাস্ট পেজে থাকা মানেই অনেক কিছু।

যখনই কোন ভিজিটর গুগল ভিজিট করবে, ঠিক তখনই ফার্স্ট পেজে যে সকল পেজ পেয়ে থাকে সেগুলোতে 100% ক্লিক করে। এজন্য গুগলের ফার্স্ট পেজ এ থাকতে হলে অবশ্যই ভালোভাবে এসইও শিখতে হবে।

ধন্যবাদ

Next Post Previous Post
2 Comments
  • RA Sports 24
    RA Sports 24 May 31, 2022 at 7:41 AM

    very helpful information

    • Mobile Tutor
      Mobile Tutor June 1, 2022 at 8:16 PM

      Thank you

Add Comment
comment url